রসায়ন কাকে বলে | রসায়ন সম্পর্কিত কয়েকটি প্রশ্ন উত্তর

রসায়ন কাকে বলে
রসায়ন কাকে বলে

রসায়ন কাকে বলে?

= বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন ও ধর্ম এবং পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে। এর ইংরেজি পরিভাষা Chemistry

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ কী?

= বিজ্ঞানের একটি শাখা হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। যুক্তি দিয়ে, পর্যবেক্ষণ করে অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কোনো বিষয় সমন্ধে বোঝা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়া বা সে সমন্ধে ভবিষ্যত বাণী করাই হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ।

প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কয়েকটি শাখার নাম লেখ?

= পদার্থবিজ্ঞান (Physics), রসায়ন (Chemistry), উদ্ভিদবিদ্যা (Botany), প্রাণিবিদ্যা (Zoology), অণুজীববিজ্ঞান (Microbiology), জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy), মৃত্তিকা বিজ্ঞান (Soil Science) ইত্যাদি।

কখন থেকে মানুষ রসায়নের ওপর নিয়ন্ত্রণ শুরু করে?

= প্রথম যেদিন দুইটি পাথরকে ঘসে মানুষ আগুন জ্বালাতে শিখল সে সময় থেকেই রসায়ন এর উপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ শুরু হয়।

প্রথম ব্যবহৃত ধাতুর নাম কি?

= প্রথম ব্যবহৃত ধাতুর নাম বলো সোনা।

তাম্র যুগের সময়কাল কত ছিল?

= ৫০০০-৩০০০ পর্যন্ত তাম্র যুগের সময়কাল ছিল।

সংকর বা ব্রোঞ্জ ধাতু বলতে কি বুঝ?

= খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে এবং এ দুইটি তরলকে একত্রে মিশিয়ে অতঃপর মিশ্রণকে ঠান্ডা করে যে কঠিন ধাতুতে পরিণত করা হয় তাকে সংকর ধাতু বলে। এ সংকর ধাতুর নাম হল ব্রোঞ্জ।

ব্রোঞ্জ যুগ এর সময়কাল কত ছিল?

= ৩০০০-১০০০ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ যুগ এর সময়কাল ছিল।

পদার্থের গঠন নিয়ে বিজ্ঞানীদের মতামত :

= খ্রিষ্টপূর্ব 380 অব্দের দিকে গ্রিক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস ঘোষণা করেন যে, প্রত্যেক পদার্থকে ভাঙতে থাকলে শেষ পর্যায়ে এমন এক ক্ষুদ্র কণা পাওয়া যাবে যাকে আর ভাঙা যাবে না। তিনি এর নাম দেন অ্যাটম (Atom অর্থ indivisible বা অবিভাজ্য)। প্রায় একই সময়ে ভারতীয় কোনো কোনো দার্শনিক ডেমোক্রিটাসের মতো প্রায় একই ধারণা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু এ ধারণাগুলোর কোনো পরীক্ষামূলক ভিত্তি ছিল না। অ্যারিস্টটল এ ধারণার বিরোধিতা করেন। তখন অ্যারিস্টটলসহ অন্য দার্শনিকেরা মনে করতেন সকল পদার্থ মাটি, আগুন, পানি ও বাতাস মিলে তৈরি হয়। ফলে অ্যাটমের ধারণা অনেক দিন পর্যন্ত মানুষ গ্রহণ করেনি।

রসায়নের প্রথম গবেষণা সম্পর্কে লেখ?

= মধ্যযুগে আরবের মুসলিম দার্শনিকগণ কপার, টিন, সিসা এসব স্বল্পমূল্যের ধাতু থেকে সোনা তৈরি করতে চেষ্টা করেছিলেন। তাদের আরেকটি চেষ্টা ছিল এমন একটি মহৌষধ তৈরি করা, যা খেলে মানুষের আয়ু অনেক বেড়ে যাবে। তারা অবশ্য এগুলোতে সফল হননি। তবে তারা অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছিলেন। ফলে সোনা বানাতে না পারলেও বিভিন্ন পদার্থ মিশিয়ে সোনার মতো দেখতে এমন অনেক পদার্থ তৈরি করেছিলেন এবং তাদের এ পরীক্ষা-নিরীক্ষাগুলো লিখে রেখেছিলেন। মূলত এগুলোই ছিল রসায়নের ইতিহাসে প্রথম পদ্ধতিগতভাবে রসায়নের চর্চা বা রসায়নের গবেষণা।

আলকেমি এবং আলকেমিস্ট বলতে কি বুঝ?

= মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)।

কেমিস্ট্রি (Chemistry) বা‌ রসায়ন শব্দের উৎপত্তি ব্যাখ্যা করো?

= মধ্যযুগীয় আরবের রসায়ন চর্চাকে আলকেমি (Alchemy) বলা হতো আর গবেষকদের বলা হতো আলকেমিস্ট (Alchemist)। আলকেমি শব্দটি এসেছে আরবি শব্দ আল-কিমিয়া থেকে। আল-কিমিয়া শব্দটি আবার এসেছে কিমি (Chemi বা Kimi) শব্দ থেকে। এই Chemi শব্দ থেকেই Chemistry শব্দের উৎপত্তি, যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো রসায়ন।

রসায়নের জনক কে এবং কেন তাকে রসায়নের জনক বলা হয়?

= রসায়নের জনক জাবির-ইবনে-হাইয়ান । কারণ তিনিই সর্বপ্রথম গবেষণাগারে রসায়নের গবেষণা করেন।

জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নের প্রকৃত রহস্য আবিষ্কার করতে পারেনি কেন? এবং কারা রসায়নের প্রকৃত রহস্য‌ আবিষ্কার করেন?

= জাবির ইবনে হাইয়ান বিশ্বাস করতেন সকল পদার্থ মাটি, পানি, আগুন আর বাতাস দিয়ে তৈরি। তাই তিনি গবেষণা করলেও রসায়নের প্রকৃত রহস্যগুলো তার কাছে পরিষ্কার ছিল না।
রসায়নের প্রকৃত রহস্য উদ্ভাবন করে রসায়ন চর্চা প্রথম শুরু করেন অ্যান্টনি ল্যাভয়সিয়ে, রবার্ট বয়েল, স্যার ফ্রান্সিস বেকন এবং জন ডাল্টনসহ অন্যান্য বিজ্ঞানী।

আধুনিক রসায়নের জনক কাকে বলা হয়?

= এন্টনি ল্যাভয়সিয়েকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়।

0 Comments